ডিমের দাম বৃদ্ধির কারণ?

ডিমের দাম বৃদ্ধির কারণ?

ডিমের দাম নিয়ে আবার দুশ্চিন্তা শুরু হয়েছে। কারণ, গত তিন দিনে ডিমের দাম বেড়ে প্রতি হালি ৫৫ টাকায় দাঁড়িয়েছে। এমন প্রেক্ষাপটে করপোরেট সিন্ডিকেট ভাঙতে না পারলে ডিমের দাম আরও বাড়বে, এমন আশঙ্কার কথাই জানিয়েছে প্রান্তিক খামারিদের সংগঠন বাংলাদেশ পোলট্রি অ্যাসোসিয়েশন (বিপিএ)।

বিপিএ গতকাল বৃহস্পতিবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এমন আশঙ্কার কথা জানায়। এতে স্বাক্ষর করেন সংগঠনের সভাপতি সুমন হাওলাদার।

ডিমের দাম বৃদ্ধির কারণ:

পোল্ট্রি খাদ্য, জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ায় উৎপাদন খরচ বেড়ে গেছে, সে কারণে ডিম ও মুরগির দামও বেড়েছে -বলছেন ব্যবসায়ীরা। পোল্ট্রি শিল্প সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিশ্ববাজারে কাঁচামালের দাম যেমন বেড়েছে, তেমনি ডলারের দামের কারণে আমদানির খরচ বেড়েছে। এছাড়া, ব্যাংকগুলোতে ডলার সংকট থাকায় এলসি খুলতে সমস্যা হচ্ছে।

ডিম
ডিম

ক্রেতাদের কষ্টের কথা:

“গত কয়েকদিন ধরে ডিমের দাম শুনে অনেক কাস্টমার গালাগাল দিচ্ছে। অনেকে বুঝলেও কেউ কেউ মনে করে দোকানদাররা ইচ্ছা করে দাম বেশি চাইছে। তাদেরকে কীভাবে বোঝাবো যে এখানে আমাদের কিছু করার নেই”, আক্ষেপ করছিলেন ঢাকার মোহাম্মদপুরের মুদি দোকানদার লতিফ হোসেন।

সুমন হাওলাদার বলেন, ছোট খামারি ও ডিলাররা পোলট্রি শিল্পের বিকাশ ঘটালেও আজ তাঁরা অসহায়। প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত ৫০ লাখ প্রান্তিক উদ্যোক্তার অধিকাংশই ব্ল্যাঙ্ক চেকের মাধ্যমে জিম্মি হয়ে পড়েছেন কোম্পানির দাদন ব্যবসার কাছে। বর্তমানে প্রান্তিক পর্যায়ে একটি ডিমের উৎপাদন খরচ ১০ টাকা ৮৭ পয়সা থেকে ১১ টাকা পর্যন্ত। ১ কেজি ব্রয়লার মুরগির উৎপাদন খরচ ১৭০ থেকে ১৭৫ টাকা। কিন্তু প্রান্তিক খামারিদের বাধ্য হয়ে ২০ থেকে ২৫ টাকা কমে ১৩০ থেকে ১৪০ টাকায় মুরগি বিক্রয় করতে হচ্ছে।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান:

২০২১ সালে ১ কেজি ভুট্টার দাম ছিল ২৮ টাকা, ৫০ কেজির ১ বস্তা পোলট্রি খাবারের দাম ছিল ২ হাজার ৫০০ টাকা। ২০২২ সালের শুরুতে ভুট্টার দাম ছিল ২৮ টাকা, আর ৫০ কেজির ১ বস্তা খাবারের দাম ছিল ২ হাজার ৭০০ টাকা। ২০২২ সালে ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের দোহাই দিয়ে লাগামহীনভাবে খাবারের দাম বাড়িয়ে দেওয়া হয়। গত ফেব্রুয়ারিতে ভুট্টার দাম হয় ৪১ টাকা কেজি। আর পোলট্রি খাবারের ৫০ কেজি বস্তার দাম পৌঁছায় ৩ হাজার ৭৪০ টাকায়।

চলতি বছরের মার্চ মাসে ভুট্টার দাম কমে দাঁড়ায় ২৪ থেকে ২৬ টাকা কেজি। অথচ পোলট্রি খাবারের দাম কেজিপ্রতি ২৫ টাকা বাড়ানোর পরে কমানো হয়েছে মাত্র ৩ টাকা। খাবার প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানের সিন্ডিকেট ভেঙে দেওয়ার পাশাপাশি বাজারে ডিম ও মুরগির দাম যৌক্তিক পর্যায়ে রাখতে প্রান্তিক খামারিদের উৎপাদিত পণ্যের উপযুক্ত মূল্য নিশ্চিতের দাবি জানিয়েছে বিপিএ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *